শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৪

বাবার হোমিওপ্যাথ


২০১০ সাল। আম্মা প্রচণ্ড অসুস্থ ।মামা চাঁদপুরে মামার পরিচিত এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। ডাক্তারের খুব তাড়াহুড়া । রাত বারটার তুতুল লঞ্চে ঢাকা চলে যাবেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক্তার আসলেন। আগেই বলেছিলেন যে তাড়াহুড়া করে ঢাকা যেতে হবে। মামা আম্মাকে নিয়ে চেম্বারের ভিতরে গেল। আমি আর বাবা বসে ছিলাম। কিছুক্ষন পর মামা আর আম্মা বেরিয়ে আসলেন। বললেন যে কাছের কোন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। আমরা নিছে নেমে আসলাম।মামা বললেন, কেন যে ডাক্তারি পড়লিনা, এই দেখ দুই মিনিটে পাঁচশ টাকা নিয়ে নিল।  আমি আর কিছু বললাম না। চান্স পেলে তো পড়ব। 

কিছুক্ষন মামার সাথে বাক বিতণ্ডার পরে বাবা আম্মাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে রাজি হলেন। আমার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। হোমিওপ্যাথ চিকিৎসা ওনার খুব পছন্দ। বাবার মতে হোমিওপ্যাথের উপর কোন চিকিৎসা নাই। এসব বলে আম্মাকে হোমিওপ্যাথ ঔষধে চিকিৎসা করিয়েচেন। এখন অবস্থা খুবই খারাপের দিকে তাই হয়ত আর হোমিওপ্যাথ এর উপর ভরসা করতে পারছেন না এবং জোর গলায় কিছু বলতেও পারছেন না। তাছাড়া আমি আর মামা তো পুরাই হোমিওপ্যাথ এর বিপক্ষে।


মামা চলে গেলেন ট্যাক্সি খুজতে ( বেবি ট্যাক্সি ) আমি বাবার দিকে তাকালাম। দেখলাম , বাবা তাকিয়ে আছেন অন্ধকার নদীর দিকে। ( ডাক্তারের বাসা ডাকাতিয়া নদীর পারে। ) আমি বুঝলাম। এতটুকু এখন বুঝতে পারি। অন্ধকার নদীতে কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু অনেক কিছু ভাবা যায়। মাসের শেষ । পকেট খালি। বেতন পেতে হয়ত আরও দশ বারো দিন। ছেলে আর শালার সামনে এই কথাগুলো কিভাবে শেয়ার করবেন। আর তারপরে আমার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসল আসল সত্য। আমি উপলব্ধি করলাম। কেন বাবা হোমিওপ্যাথ এত পছন্দ করেন? আমার মনে হল, উত্তরটা আমি জানি। হোমিওপ্যাথ এ ডাক্তারের ভিজিট দিতে হয় না। ঔষধের দাম তো নগন্য। আমার বাবার মত শিক্ষকের হোমিওপ্যাথ পছন্দ না করে কি উপায় আছে!!

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ও পরিশ্রম


আমি সপ্ন দেখি এক কর্মমুখর বাংলাদেশরআর কর্মের ফল হিসেবে এক উন্নত বাংলাদেশের। কাজ এবং কাজই পারে সফলতার উচ্চ শিখরে নিয়ে যাতে।
আমার এই দেশের ১ % এর কম লোক কাজ করে, বাকি সবাই বসে বসে খায়। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। উন্নয়ন কেও আমাদের এনে দিবে না, আমরা আমাদের পরিশ্রম অনুযায়ী উন্নয়ন পাবএই ছোট দেশে এত এত মানুষ, একজন মানুষ যদি একটি ইট বহন করে তাহলে দিনে কয়েকটি পদ্মা সেতু হয়ে যাবে। মাত্র পনের দিনে সবাই উন্নত পাকা ঘরে থাকতে পারবে। কিংবা শুধুমাত্র অলস সেনাবাহিনীকে ফাও ফাও কাজ করানর চাইতে রাস্তাঘাত ব্রিজ মেরামতের দায়িত্ব দিলে এই সোনার দেশের চেহারা পাল্টানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।  কিভাবে কি করতে হবে সেটা নীতিনির্ধারকরাই বলবে, কিন্তু আমি দেখি সবি সম্ভব। দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার অর্ধেক নারী আজো অলস, ধর্মবাদি আর ধর্মবিরোধীদের চাপে আজো তারা বন্দী। 


শীত প্রধান দেশের লোক সংখ্যা এত কম যে , ভাবতে অবাক লাগে তারা এত উন্নত কেন? কেও বলেন মাথাপিছু জমির পরিমাণ বেশি। আমার ভাবনার দিক আলাদা, তারা পরিশ্রমী। সামান্য কাজটি ও তাদের কাছে সামান্য নয়।
আমাদের শিক্ষিত যুবকরা হতাশ থাকে, কারন চাকরীর বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু তারা কখনোই অল্প বেতনের চাকরি করতে চায় না, যেটি অপ্রতুল নয়, অল্প বেতনের অনেক চাকরি এই দেশে আছে। যদিও আহামরি কিছু নয়, পকেট খরচ চলবে হয়ত। কিন্তু আমার মতামত হচ্ছে বসে না থেকে এটি করলেই খারাপ কি!! অন্তত পকেট খরচ চলবে তো ! আর সাথে যা হবে সেতি কি আমরা ভেবে দেখেছি? নিজের দক্ষতা বাড়বে। বইয়ের বিদ্যা আর বাস্তব বিদ্যার তফাৎটুকু ধরতে পারবে। আর দক্ষতা বাড়লে বেশি বেতনে ভালো প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে কারন দক্ষতা কথা বলে। কাজের মাধ্যমে বিদ্যার তরোয়ালকে শানিয়ে নেয়া যায়।
আর কিছু না করে বসে থাকলে অর্জিত বিদ্যাটুকু হারিয়ে যেতে থাকে, মন পরিপূর্ণ হয় হতাশায়। কাল্পনিক এক বিদেশের টানে মন ছুটে চলে। মনে হয় সেইসব দেশে সবাই বসে বসে খায়!!! সেই দেশে একবার যেতে পারলে আর কোন চিন্তা নাই !!! দেশে এসে বাড়ি, গাড়ি কেল্লাফতে!! 


কিন্তু বাস্তব চিত্র টি ভিন্ন। একমাত্র কাজ আর কাজ ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এই পৃথিবী বাস্তব, আর এই বাস্তবের পৃথিবীকে সর্গে পরিণত করতে হবে কাজের মাধ্যমে। একমাত্র মনে হয়, স্বর্গেই কল্পনার সাথে সাথে সব হয়ে যায় কিন্তু এখানে স্বপ্নটাকে পূর্ণ করতে কাজের বিকল্প নেই।
আমার নিজের চারপাশ তথা বাংলাদেশের , আমার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সেই উন্নত চিত্র দেখার জন্যে চলুন আজি কাজে নেমে পড়ি, আর সকল কর্মজীবীকে সেলুট দেই।

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৩

চালের দাম কমেছে, মানুষের আয় বেড়েছে


ফ্রেশ হয়ে ছাদে আমার এক রুমের ঘরের দরজার সামনে দাড়িয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি মেঘালয়ের পাহাড় দেখা যাচ্ছে। উত্তরের হাল্কা ঠাণ্ডা বাতাস আমার শরীরে কাপুনি ধরিয়ে দেয়। মনে হয়, এই দেশটাকে আমি অসম্ভব ভালবাসি। আর স্নিগ্ধ প্রকৃতি আমায় যেন বলে যায় এই তো স্বর্গ আমার ডানে লাল সাদা টেলি টাওয়ার। এক নীরব মূর্তি কিন্তু দেখে বুঝার উপায় নেই যে প্রতি মুহূর্তে সে পৃথিবীর নানা প্রান্তে হাজারো তথ্য পাঠাচ্ছে । বাতাসে সামনের বাশ ঝারের মাথা গুলো একবার এইদিকে আরেকবার ওইদিকে দুলছে। ঠাণ্ডা বাতাসে তারা যেন নেচে নেচে গা গরম করছে। উত্তরে বহুদুরে অনেক গুলো চিল। বৃত্তাকার পথে ঘুরে ঘুরে খাবারের সন্ধানে মগ্ন। মনে হয় নিশ্চিন্ত মনে বারবার ঘুরছে। চিলের সাথে চারকোনা ঘুড়ি গুলো দেখে ভ্রম হতে পারে। কারা যেন এত সকালে ঘুড়ি উরাচ্ছে। একটা দুটো নয় , পাচ ছয়তি হবে। এখন আর এমন দেখা যায় না। কার অত সময় আছে!! তারপরেও আজ ঘুড়ি গুলো উড়ছে। সময়ের কথা চিন্তা করতে গিয়ে মনে হল আজ হরতাল। গতকাল পিকেটারদের আগুনে নয় জন মারা গেছে। ভাবতে ভালো লাগে না। এত সুন্দর সকালে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আজকের দিনের মত ঘরে বন্দী আমি। ইংলিশ স্কুলের মাষ্টার আমি, হয়ত শুক্র ও শনি দুইদিন ই ক্লাস নেয়া লাগতে পারে কিন্তু মাস শেষের সামান্য বেতন পেয়ে যাব। কিন্তু অই যে ঠিক সামনের বস্তিটা থেকে যে শিশুর কান্না ভেসে আসছে তার বাবা হয়ত আজ চার দিন কাজে যেতে পারে নি। ওই ছোট শিশু আর তার ভাই বোন গুলো হয়ত সকালে নাস্তা করে নি। নিপা আমার কথা শুনে হয়ত হাসবে, হয়ত বলবে নিজের চিন্তা আগে কর, আরও হয়ত বলবে যে তার মাস্টার্সের ফরম ফিল আপ এর ফিস ই এখনো দিতে পারি নাই আর এখন কি না চিন্তা করছ ওদের নিয়ে, তারা ঠিকই সবকিছু ঠিকমত পাচ্ছে। হয়ত ও ঠিক বলবে। কারন টিভি অন করলেই দেখি চালের দাম কমেছে, মানুষের আয় বেড়েছে। কিন্তু বাজারে গিয়ে তো দেখি গতমাসে যে চাল কেজিতে ৩৭ টাকা ছিল এখন তা ৩৯ টাকা। হয়ত দোকানদার আমার কাছ থেকে বেশি চেয়েছে এই ভেবে আরেক দোকান চেক করি। কিন্তু না , কেউ দাম কমায় না। দামটা শুধু বাড়ে।

তারপরেও এই দেশটাকে আমি ভালবাসি, এই দেশ নিয়ে সপ্ন দেখি।

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৩

অপ্রাপ্তির অপর নাম দুঃখ


রুপাই সুখ খুজে ফেরে,
           রুপাই সুখ দেখে নেড়ে
সুখের কাটা ছেড়া,
           খুজে সুখের বেড়া
দেখেছে কি রুপাই,
           সুখ আসে দুঃখ ছাড়াই
দেখেছে কি সে ,
         সুখ আছে বিষে

রুপাই কি ভেবেছে,
         যে দুঃখ সে পেয়েছে
বিষণ্ণ ভাবনায়,
        কত সুখ কান্নায়!!
রুপাইয়ের মনের তলে,
         পাথর পরে গলে
শুনেছে কি সে,
      সুখ আছে মিশে
হাজারো দুঃখের সাথে ,
       সুখ যে থাকে তাতে
অনুভবে ব্যর্থ রূপাই,
       দেয় সুখের দোহাই
আসে কি তার ভাবনায়,
      কত সুখ কান্নায়
ব্যথা যখন বেড়ে যায়,
       সুখ যখন ছেড়ে যায়,
আসে কি তার ভাবনায়,
     কত সুখ কান্নায় !!!

দুঃখ আপেক্ষিক, সুখই চিরন্তন। রুপাইয়ের বয়স যখন ছয় তখনকার একটি দুঃখ তার মনে আছে। সেই দুঃখটা হল একটি আইস্ক্রিম খেতে না পাওয়া। প্রতিবেশি একটি মেয়ের আইস্ক্রিম খাওয়া দেখে সে তার বাবাকে বলেছিল একটি আইস্ক্রিম কিনে দেওয়ার জন্যে। তার বাবা তাকে একটি আইস্ক্রিম কিনে দিয়েছিলেন তবে সেতি সেই কাংখিত আইসক্রিম নয়। সেটাই ছিল তার দুঃখ। কান্নায় বুক ভাসিয়ে দিয়েছিল সে। সেই দুঃখটা সত্যই অন্যরকম। তার বয়স যখন আট , তখন সে একবার এক ঈদে জামা পায় নি, সেই ঈদে তার দুঃখ কে দেখে। কান্না, কান্না আর কান্না। যতই সে বড় হতে থাকে ততই তার দুখের রকম ফের হয়। আর দুখ গুলো অবশ্যই অপ্রাপ্তি থেকে। স্কুলে কোন কারনে বান্দবিদের সাথে ঝগড়া করে কথা না বললে তার দুঃখ হয়, দুঃখটা তার মনের। যতদিন বান্দবির সাথে কথা না হয় ততদিন দুঃখ থাকে। দুখের অনুভূতিটা ভিন্ন। হঠাত করে যখন সে বড় হয়, তখন যেন দুঃখ গুলো আরও রঙ পায়। সপ্নের ডানায় ভরে দুঃখ আসে। এক রাজ কুমারের জন্যে সপ্নের দুঃখ। সেই দুঃখের কোন যেন শেষ নেই। শুধু কান্না, খালি কান্না পেত যেন। তখনকার সেই কাল্পনিক আপন জন ছাড়া আর যেন কেও আপন ছিল না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই আপন জনের দেখা পায় সে। কান্না যেন কিছুতা গতি পায়। কিন্তু মানুষ যা চায় তা কি পায় !! সেই জন তো তার ডাকে সারা দেয় না। তাই আবার দুঃখ গুলো বেড়ে উঠে। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। সময়ের প্রয়োজনে, জীবনটাকে চালিয়ে নেওয়ার জন্যে নতুন সপ্ন বোনা লাগে, নতুনত্তে ভর দিতে হয়। আবার নতুন সম্পর্কে জড়াতে হয়। এখানেও দুঃখ থাকে। যতক্ষণ না পাওয়া যায় ততক্ষণ দুঃখ। পেলেও যে দুঃখ গুছে তা নয়। নতুন দুঃখ যোগ হয় তাতে। সামগ্রিক ভাবে তাই তো বলা যায় অপ্রাপ্তির অপর নাম দুঃখ।
কারো হয়ত না খাওয়ার দুঃখ,
কারো অভাবের দুঃখ,
আবার কারো আত্মীয়তার দুঃখ,
কারো আপন জন না পাওয়ার দুঃখ,
তাহলে এটাই তো সত্যি সামগ্রিক অপ্রাপ্তির অপর নাম দুঃখ।